জীবনসঙ্গীর কেমন বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী আশা করেন
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।
প্রথমতো, হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন। [সুরা আল ফুরকান-২৫৪৭৪]
দ্বিতীয়ত, ক।নামাযে বিনয়াবনত হবে, খ।নিয়মিত কোরআন তিলওয়াত করবে এবং তাফসীর পড়বে, গ।অর্থহীন বিষয় থেকে বিমুখ থাকবে, ঘ।তার নিকট রক্ষিত আমানত ও অন্যদের দেয়া প্রতিশ্রুতিসমূহের হেফাজত করবে, ঙ।নামাযসমূহের ব্যাপারে সমধিক যত্নবান হবে, চ।বিনম্রভাবে চলাফেরা করবে, ছ।আয় ব্যয়ে ভারসাম্যমূলক অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত থাকবে, জ।হিংসা এবং অহংকার মুক্ত হবে, ঝ।অল্পে তুষ্ট থাকবে, ঞ।আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত হালাল হারামের সীমা রক্ষা করবে, ট।বিপদে ধৈর্য ধারণ করবে, ঠ। নেকীর কাজে সদা তৎপর থাকবে, এই কাজে আমার থেকেও অগ্রগামী হবে। তৃতীয়ত, قال إن صلابی و لسکی و محیات و مماتي لله رب العلمين তুমি (একান্ত বিনয়ের সাথে) বলো, অবশ্যই আমার নামায, আমার (আনুষ্ঠানিক) কাজকর্ম, আমার জীবন, আমার মৃত্যু সব কিছুই সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার জন্যে । [আল-আনয়াম:১৬২] و ما خلقت الجن و الإنس إلا ليعبدون আমি মানুষ এবং জ্বিন জাতিকে আমার এবাদাত করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি। [আয-যারিয়াত:৫৬] [[সূরা আল মোমেনূন আয়াতঃ ১-১১ সূরা আন নূর ২৭-৩১ আয়াত সূরা আন নেসা আয়াতঃ ৩৪-৩৫ ]] উপরোক্ত আয়াত গুলো পড়া থাকলে, আলহামদুলিল্লাহ। না থাকলে দেখে নিবেন। চতুর্থত, ১। পর্দার বিষয়ে যত্নশীল হবেন, । দ্বীন মেনে চলার মন মানসিকতা থাকতে হবে, দ্বীনের ব্যাপারে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কেউ।এমন কাউকে আশা করি যার কোর-আন ও হাদীসের জ্ঞান আছে; যার সাথে দ্বীনের বিভিন্ন আকিদার বিষয়ে আলোচনা করা যাবে। যিনি যথাসম্ভব নবীজির মৃতপ্রায় সুন্নত ও জানতে, মানতে এবং বাস্তবায়নের আগ্রহী। ৩। স্ত্রী প্রকৃতপক্ষে স্বামীর সহযোদ্ধা, সহকর্মী সাথে প্রতিযোগিও বটে [দ্বীনি কাজে]। আমার প্রত্যাশা তিনি স্পষ্টভাষী, সদালাপী মায়াবী, রসিক, মিষ্টিভাষী, আমার সউলমেট আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, মার্জিত, পরোপকারী, শ্রদ্ধাশীল এবং সহনুভুতিশীল হবেন। জীবনসঙ্গীর প্রতি সহমর্মিতাপূর্ণ, বন্ধুত্ব পরায়ণ, সঙ্গীকে যথাযথ সম্মান ও তার মতামতের প্রাধান্য দিতে জানবেন। ৪। ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার (বই পড়ার) আগ্রহ থাকা চাই। ৫। আমি একজন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম, ঈমান এখনো বেশ দুর্বল, দ্বীনের অনেক বিষয়ে ভুল হয়ে যায়। আমি চাই আমার আহলিয়া আমি যেসব বিষয়ে দুর্বল সেসব বিষয়ে আমাকে সাহায্য করবে এবং ভাইস ভার্সা। দুজনে মিলে যেন দুনিয়া এবং বেহেশতেও একত্রে থাকতে পারি, ইনশাআল্লাহ। ইসলাম সম্পর্কে যার মনটা উদার, মধ্যপন্থী, সংকীর্ণমনা নয় এমন কেউ। ৭। তিনি বই পড়ুয়া হলে খুবই উত্তম হয়। ৮। একজন অর্ধাঙ্গিনী যে কিনা একজন আদর্শ মা হয়ে আদর্শ পরিবার গঠনে আগ্রহী। ফ্যামিলি ওরিয়েন্টেড হবেন। ৯। যিনি বাস্তবতা ও সময়ের প্রেক্ষাপট উপলব্ধি করে নিজেকে পরিচালনা করেন এবং অন্যের অনুপ্রেরণার অনুঘটকরুপে কাজ করেন। দুনিয়াবি স্বার্থপরতা, পাওয়া ও না পাওয়ার মাঝে আমার পরিবার হবে শান্তি ও নিরাপত্তার জায়গা। [আমার প্রত্যাশা গুলো আখলাক এবং কিছু সুন্দর গুণাবলি কেন্দ্রিক, যা একজন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম থেকে সাধারণত আশা করা যায়, ইনশাআল্লাহ এবং আমিও নিজের উন্নতি সাধনে চেষ্টা করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ। উপরে উল্লেখিত সব গুণ একজন মানুষের মাঝে পাওয়া কষ্টসাধ্য বিষয়। সম্পূর্ণ মিল পাওয়া না গেলেও, খুব বেশি অমিল না থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা উত্তম পরিকল্পনাকারি।]